বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা এলেও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইসরায়েল। বরং দেশটি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন, সিরিয়া এবং গাজায় দখল করা বিভিন্ন অবস্থানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো চাপের মধ্যেও লেবানন থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, দক্ষিণ লেবাননের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি চলমান থাকবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ওই অঞ্চলে যেসব এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেগুলো স্থানীয় জনশূন্য করা হবে।
কাটজ জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের, এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছেও স্পষ্ট করেছেন।
এদিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরান যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলায় জড়ায়, তাহলে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর ও সর্বশক্তি প্রয়োগ করে জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের চুক্তি তেল আবিবকে কোনোভাবেই সামরিক সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখতে পারে না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি, লেবানন সংঘাত নিরসন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।
হাফিজ/ আয়না নিউজ