বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতও চাপের মধ্যে রয়েছে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জ্বালানি সংকট এখনও অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় মানবিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাজেটের মূল দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণমূলক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সিপিডির মূল্যায়নে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ মিল লক্ষ্য করা যায়।
সংস্থাটি মনে করে, বাজেটের সাফল্য এর আকারের ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। তাই লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সিপিডি।
সিপিডির মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই নতুন সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার যদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তবে তা দেশের অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ