বিশেষ প্রতিনিধি, Md Al Rajib।।
বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় কৃষকদল নেতা বাদল মোড়লকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা বারইপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের একটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের নিয়তির মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় বারইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল (৪০) নিহত হন। এসময় তার সঙ্গে থাকা ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদল মোড়লকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত আব্দুল্লাহ মোড়লকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার (১০ জুন) সকাল থেকেই বারইপাড়া এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। স্থানীয় বিএনপি, কৃষকদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ চলাকালে একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ বারইপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে অফিসের আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু, বিএনপি নেতা ফকির তারিকুল ইসলাম, তালুকদার শহিদুল ইসলাম স্বপন, শরিফ মোস্তফা জামান লিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল, শেখ মহিদুল ইসলাম, বারইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মাসুদ এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কৃষকদল নেতা বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস ঘটনা। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। তবে এ ঘটনার জেরে আমাদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আটক করার পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনাটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক বলে দাবি জানান জেলা জামায়াতের আমির।
কৃষকদল নেতা হত্যার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।
সোহাগ/ আল রাজীব/ আয়না নিউজ