বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
বরগুনা শহরের জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী (৩৪) ও তার দুই মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাত দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে বরগুনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, শুরু থেকেই মামলা করতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। গত শনিবার থানায় মামলা করতে গেলে দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসকে বাদী না হয়ে তাঁর শাশুড়িকে বাদী করার পরামর্শ দেয় পুলিশ। পরে সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার আবেদন করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না থাকায় আদালত তা গ্রহণ করেনি।
মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, গত রাতে থানায় মামলা করেছি। এর আগেও একাধিকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিভিন্নভাবে বাধা পেয়েছি। শুরু থেকেই পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে। আমরা চাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।
গত বুধবার বরগুনা শহরের থানাপাড়া এলাকার বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো-এর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইতি রানী ওই ডাকবাংলোর অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন।
ঘটনার পর বরগুনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করা হলেও নিহতদের স্বজনরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ চলছে।
এর আগে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভও হয়। স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হাফিজ/ আয়না নিউজ