বিশেষ প্রতিনিধি, Riyadh Khan।।
অর্থবছর হিসেবে জুন-জুলাইকে পরিবর্তন করে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিল রেখে অর্থবছর করতে সংসদে প্রস্তাব দেবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬-২৭’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের ফিসকাল ইয়ার হচ্ছে জুলাই থেকে জুন। জুন মাসে বর্ষা, দুর্যোগ, সাইক্লোনসহ নানা কারণে সাধারণত আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ্য করি, এডিপির একটি বিশাল অংশ শেষ দুই মাসে তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি প্রকৃত বাস্তবায়ন নয়, বরং গণলুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না; কিছু অসৎ সুবিধাভোগীর পকেটে চলে যায়।
তিনি বলেন, আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব আমাদের ফিসকাল ইয়ারকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করা হবে। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর হিসাব পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাজেট প্রণয়নের তিন মাস আগে সম্পূরক বাজেট সংসদে উপস্থাপন করার কথা। কিন্তু সেটি না করে শেষ সময়ে করা হয়। এর ফলে বাজেটের খরচের হিসাব আমরা পাই না। সম্পূরক বাজেট যেন তিন মাস আগেই উপস্থাপন করা হয়, সে বিষয়ে আমরা সংসদে কথা বলব।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে একটি নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। নির্বাচনে জনগণ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে এবং ভোট দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে কি না, ফলাফল সঠিক হয়েছে কি না এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সাক্ষ্যও পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, একই দিনে দুটি নির্বাচনে মানুষ ভোট প্রদান করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার একটি ভোটের রায় মেনে নিয়েছে, আর গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে। অথচ নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দল বলেছিল, গণভোটের রায় সবাই মেনে নেবে এবং সেই অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। এর পক্ষে বিরোধী দলের অবস্থান ছিল ঐক্যবদ্ধ ও স্পষ্ট। আমরা আলোচনা করেছি, কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল আমাদের দাবি অগ্রাহ্য করে বাস্তবে জনগণকে অপমান করেছে।গণভোটের রায় ব্যর্থ হওয়ার এমন নজির বাংলাদেশে নেই, বিশ্বেও নেই। বাংলাদেশে এর আগে তিনটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং যথারীতি সেগুলোর রায় বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম এর ব্যতিক্রম ঘটল।
পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি বিকল্প বা প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করেছে। অনুষ্ঠানে জামায়াতের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
আরও উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ।
জামায়াতের দলীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির মজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।
রিয়াদ খান/আয়না নিউজ