বিশেষ প্রতিনিধি, Md Al Rajib।।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু আসার প্রবাহ অব্যাহত থাকায় হাট এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তি। বৃষ্টি ও অতিরিক্ত পশুর চাপের কারণে হাটজুড়ে কাদাপানি জমে চলাচল কার্যত দুরূহ হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর গাবতলী গবাদি পশুর হাটের সীমানা পেরিয়ে গাবতলী মাছের আড়তের সীমানাও অতিক্রম করেছে কোরবানির পশুর হাট। সীমানার মধ্যে শামিয়ানা টাঙানো থাকলেও খোলা আকাশের নিচেই হাজার হাজার গরু বাঁধা রয়েছে। উপরে নামমাত্র পলিথিন বা ত্রিপল টাঙানো হয়েছে। তবে বৃষ্টি এলেই শেষ রক্ষা হচ্ছে না। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেই গরু, বিক্রেতা ও ক্রেতাকে ভিজতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে নিচেও কাদা-পানিতে কর্দমাক্ত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
হাটের প্রবেশপথ থেকে বসিলা সড়ক পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট ও ট্রাকের সারি দেখা গেছে। শত শত পশুবাহী ট্রাক ও মিনি পিকআপ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও নির্ধারিত জায়গা না পাওয়ায় গরু নামানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চালকরা।
হাটে সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। হাটের অধিকাংশ জায়গায় কাদা ও পানি জমে কর্দমাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পা ফেলার মতো অবস্থাও নেই। কাদার কারণে গরু নামানো, বেঁধে রাখা এবং ক্রেতাদের পশু দেখানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেক গরু বৃষ্টিতে ভিজে একেবারে কাদামাখা অবস্থায় দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরাও ভেজা কাপড়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাটে অবস্থান করছেন।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা এক গরু ব্যবসায়ী জানান, বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে। ক্রেতাদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম। বিকেলে বৃষ্টি না থাকলে ক্রেতা আসবে। আজই শেষ দিন, আমরাও গরু বিক্রি শেষ করতে চাই। গতকাল রাতে এসেছি। ২টা বিক্রি করেছি। সকালে বৃষ্টি না হলে আরও বিক্রি করতে পারতাম। এখনো সব বিক্রি করতে পারিনি। বৃষ্টির কারণে ক্রেতা কম, আবার কাদার জন্য গরু দেখাতেও সমস্যা হচ্ছে।
আরো এক বিক্রেতা বলেন, হাটে এত গরু এসেছে যে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ট্রাকেই গরু রাখতে হচ্ছে। বৃষ্টিতে গরু ভিজছে, আমরাও কষ্ট করছি।
অন্যদিকে, ক্রেতারাও জানান, কাদা ও ভিড়ের কারণে হাটে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঈদের আগে এমন অব্যবস্থাপনায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
আল রাজীব/ আয়না নিউজ