বিশেষ প্রতিনিধি, Md Al Rajib।।
হজ্জ হলো মুসলমানদের জন্য পবিত্রতম একটি ইবাদাত। সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় অনুষ্ঠিত একটি বার্ষিক ইসলামি সফর।
আজ সোমবার (২৫ মে) শুরু হয়েছে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এ বছর বিদেশ থেকে ১৫ লাখে ১৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়।
এ বছর আঞ্চলিক উত্তেজনা মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি হজ পালনে অংশ নিতে সৌদি আরবে এসেছেন।
প্রতি বছরের ন্যায় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ এই হজে অংশ নেন। কায়রো থেকে আসা হজযাত্রী আব্দুল মোনেইম বলেন, হজ পালনের সুযোগ পেয়ে তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি খুবই আনন্দিত ও সৌভাগ্যবান বোধ করছি, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
আজ থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সকল হজ যাত্রীরা মক্কার কাছাকাছি মিনার বিশাল তাঁবু নগরীতে সমবেত হন। এর আগে তারা পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন।
সোমবার (২৫ মে) দুপুর পর্যন্ত হাজিদের মিনায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। হজের নিয়ম অনুযায়ী, সোমবার সারা দিন এবং রাত মিনায় ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পার করবেন হজযাত্রীরা। মঙ্গলবার হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচিত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন মুসল্লিরা। সেখানে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, ইবাদত ও দোয়া করবেন।
অনেক মুসল্লি জানিয়েছেন, তারা বছরের পর বছর অপেক্ষা ও সঞ্চয়ের পর হজে আসার সুযোগ পেয়েছেন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেই এই যাত্রা করেছেন।
মিনা ও আরাফাতসহ পবিত্র স্থানগুলোতে বর্তমানে তীব্র দাবদাহ বিরাজ করছে। সৌদি আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এবারের তীব্র গরমের হাত থেকে হাজীদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য সৌদি সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পবিত্র স্থানগুলোতে ছায়া নিশ্চিত করতে বাড়তি শেড নির্মাণ, ফগ ফ্যান বা কৃত্রিম কুয়াশা তৈরির পাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে হাজিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম ও ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল। গরমের ফলে যাতে অসুস্থতা এড়ান যায় তাই হাজিদের ছাতা ব্যবহার ও পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।
এছাড়াও আগামী বুধবার পশু কোরবানির মাধ্যমেও হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং ঈদুল আজহা শুরু হবে। এরপর হাজিরা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন মদিনায় নবীজির রওজা মোবারক জিয়ারাত করে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন।
আল রাজীব/আয়না নিউজ