বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে ডিএনএ রিপোর্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে এই ডিএনএ রিপোর্ট সংগ্রহ করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে এ রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, রোববার (২৪ মে) আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নিয়ে যান।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে শিশুটির বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শয়নকক্ষে মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা একটি বালতির মধ্যে দেখতে পান তারা।
ঘটনার পর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই দিনই তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন।
জবানবন্দিতে সোহেল রানা দাবি করেন, ঘটনার দিন সকালেই রামিসাকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার রুমের ভেতরে নিয়ে যান। পরে বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে তিনি তাকে গলা কেটে হত্যা করেন বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেন। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে লাশের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করার কথাও জানান তিনি।
আসামি আদালতে আরও জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার কোনো পূর্ব শত্রুতা ছিল না।
পুলিশ বলছে, ডিএনএ রিপোর্ট ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ