বিশেষ প্রতিনিধি, Farhana Ahmed।।
মুশফিকুর রহিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিতে ভর করে পাকিস্তানের বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৩৬ রানের লিড নেয় টাইগাররা। জয়ের জন্য পাকিস্তানকে প্রযোজন ৪৩৭ রান। ২ দিনের বেশি সময় হাতে থাকলেও যা প্রায় অসম্ভবই বটে।
প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড নেওয়ার পর তৃতীয় দিনের শুরুটাও ভালোই ছিল টাইগারদের। দিনের শুরুতেই খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
এরপর ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের ১৫৯ বলে গড়া ১২৬ রানের ইনিংসে ২৭৮ রান জড়ো করে বাংলাদেশ। অন্য প্রান্তে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়তে থাকেন মুশফিকুর রহিম। ২৪৯ রানের লিড নিয়ে মধ্যাহ্নভোজে যায় টাইগাররা। বিরতির পর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে শতক পূর্ণ করেন মুশফিক। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কার মার। এই শতকের মধ্য দিয়ে ইতিহাসও গড়েছেন মুশফিক। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো লিটন এবার ৯২ বলে ৬৯ রান করেন। মিরাজের বিদায়ের পর তাইজুলকে নিয়ে ৭৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। ৫১ বলে ২২ রান করে তাইজুল বিদায় নিলে মুশফিক শেষ অবধি ছিলেন ক্রিজে। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে রেকর্ডের পসরা সাজিয়ে ২৩৩ বলে করেন ১৩৭ রান। ১০২.২ ওভারে ৩৯০ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস, লিড দাঁড়ায় ৪৩৬ রান।
পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ চারটি ও মোহাম্মদ আব্বাস তিনটি উইকেট শিকার করেন।
প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ মাহমুদুল হাসান জয়ের ৫২ ও মুমিনুল হকের ৩০ রানে ভর করে ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করে। তৃতীয় দিন প্রথম সেশনে হারায় নাজমুল হোসেন শান্তকে। তবে অধিনায়ককে হারালেও দলের হাল ধরে রাখেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। ১২৩ রানের জুটি গড়েন ৫ম উইকেটে।
জবাবে বাবর আজমের ৬৮ ও সাজিদ খানেদ ঝড়ো ৩৮ রানে ভর করে ২৩২ রান জড়ো করতে সমর্থ হয় পাকিস্তান। বাংলাদেশ পায় ৪৬ রানের লিড। টাইগারদের পক্ষে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে এবং তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
পাকিস্তান বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে। যদিও বাংলাদেশ ক্রমশই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়।
সর্বশেষ রির্পোট অনুযায়ী ৬ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২৫ রান । পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৭১ রান।
আল রাজীব/ আয়না নিউজ