বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে থাকা ‘একপেশে ইতিহাস’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসও নতুন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব পরিবর্তন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের যে বিচ্যুতি ঘটেছিল, তা এবার বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বীরদের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে এবং ইতিহাসের একপেশে উপস্থাপনা দূর করা হবে।
এছাড়া ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বিস্তারিত ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনব্যাপী নিবিড় আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের বই পরিমার্জনের কাজও চলছে।
তিনি বলেন, মাধ্যমিকের ৯৭টি এবং প্রাথমিকের ৩৬টি বই পরিমার্জনে প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা রয়েছেন।
আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে বই মুদ্রণের প্রস্তুতি নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ২০২৭ সালের শুরুতেই নির্ভুল ও আধুনিক বই হাতে পায়, সে লক্ষ্যেই দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দমুখর শিক্ষার জন্য ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন তিনটি বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক বই এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই প্রণয়ন করা হচ্ছে।
এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ে নতুন বই চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
আইসিটি বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানিয়ে মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বইগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযোজনের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমের মূল দর্শন হবে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’। এতে বইয়ের সংখ্যা কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হবে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের বিচ্যুতিমুক্ত, নির্ভুল ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ