বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
চোরাচালান, মানব পাচার ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে গণমাধ্যম বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬ বিষয়ক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস এন্ড কেয়ার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গণমাধ্যম সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, মানব পাচার ও সীমান্ত চোরাচালানের মতো অপরাধগুলো প্রায়ই সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব অপরাধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য ও প্রতারণামূলক প্রলোভন সম্পর্কে সতর্ক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মনজুর মোর্শেদ আরও বলেন, টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা গেলে মানব পাচার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় ভাষায় প্রচার চালানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
আরও পড়ুন :
দুর্নীতির তদন্তে আতঙ্ক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে দুর্নীতিবাজদের আগুন: শিক্ষামন্ত্রী
কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন আইনের মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো এ সংক্রান্ত সব বিধান একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
নতুন আইনে পাচারকারীদের সহযোগিতা করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে কাউকে আমদানি বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত হয়েছে। এছাড়া অনলাইনে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন বা বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কর্মশালায় আরও জানানো হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করে পাচারকারীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পদ অনুসন্ধান করতে পারবেন। একই সঙ্গে মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের বিচারও একসঙ্গে করতে পারবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ