বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে “পূর্ণকালীন প্রেসিডেন্ট” হিসেবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (১৩ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিজের প্রার্থিতার প্রচারণায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় তিনি লিখিত বক্তব্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ছয়টি মূল দিক তুলে ধরেন এবং নির্বাচিত হলে দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি একজন “পূর্ণকালীন প্রেসিডেন্ট” হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-এর কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সনদ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ছোট সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া, মতপার্থক্যের মধ্যেও ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সহযোগিতাকে শক্তিশালী করা।
তিনি আরও বলেন, শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়ন ঘাটতি, ঋণ ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধান এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে তিনি ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন এবং জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি মানবাধিকার সুরক্ষা, মানবিক পরিসর রক্ষা এবং শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার ওপর জোর দেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ন্যায়সঙ্গত ও বিচক্ষণ শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সূচনা বক্তব্য শেষে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. খলিলুর রহমান।
হাফিজ/ আয়না নিউজ