বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ করে সফল হওয়া যে সম্ভব, তা প্রমাণ করেছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র শাহরিয়ার পারভেজ। পড়ালেখার পাশাপাশি ২৩ জাতের আঙুর চাষ করে এখন তিনি স্থানীয় তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।
শাহরিয়ারের আঙুর বাগানে গেলে চোখে পড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা বেগুনি, সবুজ ও লালচে আঙুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঙুর বাগান। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ জানতে চাইছেন চাষের পদ্ধতি, আবার কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন নিজেরাও আঙুর চাষ শুরু করতে।
শাহরিয়ার জানান, প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউবে আঙুর চাষের একটি ভিডিও দেখে তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। পরিবারের সহায়তায় ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। অনেকেই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছেন। কেউ বলেছেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি দমে যাননি। কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত পরিচর্যায় একসময় সফলতা ধরা দেয়।
বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর, একেলো, গ্রিনলং, ডাসুনিয়াসহ ২৩ জাতের আঙুর। এর মধ্যে কয়েকটি জাত বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। কিছু চারা সংগ্রহ করা হয়েছে ভারত থেকেও। প্রতিটি গাছের যত্ন তিনি নিজের সন্তানের মতো করে নেন। আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা, সঠিক ছাঁটাই ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভালো ফলন পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এর আগে তারা কখনও এভাবে আঙুরের বাগান দেখেননি। গ্রামের অনেক তরুণ এখন শাহরিয়ারের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। অনেকেই মনে করছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে আঙুর চাষ এই অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
শুধু দর্শনার্থী নয়, প্রতিদিনই শাহরিয়ারের বাগানে আসছেন ব্যবসায়ীরাও। প্রতি কেজি আঙুর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের আঙুরের চারাও বিক্রি করছেন তিনি। এতে ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, “শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, চেষ্টা করলে সম্ভব। এখন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আমার বাগান দেখতে আসছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষ আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”