বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
মো. সুজন আলী, ঠাকুরগাঁও : দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন দুটি উপজেলা ‘ভূল্লী’ ও ‘রুহিয়া’ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়ায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন এলাকাবাসী। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে ৫টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ভুল্লী থানাকে এবং ৬টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে রুহিয়া থানাকে নতুন উপজেলায় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুই থানার মানুষে মধ্যে শুরু হয় আনন্দ উদযাপন।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত থেকেই ভূল্লী ও রুহিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার ও জনবহুল এলাকায় সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ মিছিল বের করেন। এ সময় একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও আতশবাজি ও পটকা ফুটিয়েও আনন্দ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সদর উপজেলা থেকে দূরবর্তী হওয়ায় প্রশাসনিক নানা সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হতো সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ভূমি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি ও নাগরিক সুবিধা পেতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হতো। নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব ভোগান্তি কমবে এবং এলাকায় উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
এলাকার প্রবীণ ও সচেতন মহল বলছেন, ভূল্লী ও রুহিয়াকে উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নতুন দুই উপজেলা অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দ প্রকাশ করেন প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই এটিকে ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য “ঐতিহাসিক অর্জন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সুজন/ হাফিজ/ আয়না নিউজ