বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর নিজ গ্রাম জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার কফিনবন্দি মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। একমাত্র সন্তানের মরদেহ ফিরে পাওয়ায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা।
এর আগে শনিবার (২ মে) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লিমনের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। দুবাই হয়ে সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে মরদেহটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার মাগরিবের নামাজের পর লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লিমনের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাড়ির উঠানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পা বে এলাকায় একটি ইসলামিক সেন্টারে লিমনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে বিষয়টি সামনে আসে।
পরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকার কাছে আবর্জনার ব্যাগ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত একটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় দেশ-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ