বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির পর তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী টয়লেটে আটকা পড়লে আতঙ্কিত শিশুটিকে পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ১১টায় তাকে উদ্ধার করা হয়। ১৫ এপ্রিল বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটির কিছু পূর্বে পরে শিক্ষার্থী সাদিয়া অজান্তেই টয়লেটের ভেতরে আটকা পড়ে যায়।
স্কুল ছুটি হলে শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করায় দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। স্কুল ছুটির পরেও সাদিয়া বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন সাদিয়ার বাবা স্কুলে খোঁজ নিতে এসে জানতে পারেন সাদিয়ার চিৎকার স্কুল সংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে তারা সাদিয়াকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেন।
এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করলেও ভবনের কলাপসিবল দরজা বন্ধ থাকায় প্রথমে শিশুটিকে বের করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দরজা খোলার পর প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় সাদিয়া ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আরও পড়ুন-
ঘটনাটি রাত সাড়ে ১১টায় জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করে লাইন কেটে দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের এমন আচরণে এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত ১২টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ায় তিনি বলেন, শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে, এটি স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এফএ/ আয়না