বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় সহায়তার অভিযোগ তুলে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তেহরানের।
সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।
ক্ষতিপূরণ দাবি করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। চিঠিতে ইরানি প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, এসব দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার লঙ্ঘন।
ইরানের দাবি, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুধু সামরিক নয়, কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানের ব্যাপক বস্তুগত ও মানবিক ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতির দায়ভার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন ইরাভানি।
আরও পড়ুন :
ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করলো ইতালি
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়, যাতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ ইরাক, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও গত সপ্তাহে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এই ক্ষতিপূরণের দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে নতুন করে জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
হাফিজ/ আয়না নিউজ