বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
নীলফামারী প্রতিনিধি : রাজনীতির কঠিন পিচঢালা পথ থেকে সুরের ভুবন সবখানেই যার পদচারণা ছিলো সমান উজ্জ্বল, সেই প্রিয় মুখ তাসমিন ফৌজিয়া ওপেল পা রাখলেন নতুন এক স্বপ্নযাত্রায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে লড়ার প্রত্যয়ে দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন নীলফামারী জেলা মহিলা দলের এই আপসহীন সভানেত্রী।
শনিবার (১১ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি মনোনয়ন পত্রটি সংগ্রহ করেন। এই প্রাপ্তির পেছনে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজপথের ঘাম আর সংগ্রামের গল্প।
তাসমিন ওপেল কেবল একজন নেত্রী নন, তিনি এক জীবন্ত ইতিহাস। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হাত ধরে যার রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশ। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে যিনি বুক চিতিয়ে লড়েছিলেন রাজপথে। দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন আর দমন-পীড়নের মাঝেও বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি আদর্শ থেকে। মামলা-হামলা আর জেল-জুলুম উপেক্ষা করে ঢাকার রাজপথ থেকে নীলফামারীর প্রতিটি কোণে জাতীয়তাবাদের ঝান্ডা উঁচিয়ে রেখেছেন তিনি।
শিল্প ও রাজনীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন
রাজনীতির বাইরেও তিনি এক গুণী ব্যক্তিত্ব। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সিনিয়র প্রশিক্ষক এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে এ গ্রেডের এই শিল্পী তাঁর সুরের মূর্ছনায় যেমন মানুষের মন জয় করেছেন, তেমনি রাজনীতির মাঠে জয় করেছেন আস্থা। ১৯৯২ সালে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জন করেছেন জাতীয় শিক্ষা পদক।
মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ শেষে এক আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলমের সহধর্মিণী তাসমিন ফৌজিয়া ওপেল বলেন,
বিগত ১৭টি বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে আমি সক্রিয় ছিলাম। রাজপথ ছাড়িনি, আদর্শও বিসর্জন দেইনি। দল যদি আমার এই দীর্ঘ ত্যাগ আর শ্রমের মূল্যায়ন করে আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ করে দেয়, তবে আমি নীলফামারীর অবহেলিত নারী সমাজ এবং এই জনপদের উন্নয়নে আমৃত্যু নিজেকে উৎসর্গ করব।
বিগত দিনে নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং জাসাসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি তৃণমূলের কর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। নীলফামারীর সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের আশা, দলের প্রতি একনিষ্ঠ এই নেত্রীকে সংসদ সদস্য হিসেবে পেয়ে জনপদের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
সুভাষ/ হাফি/ আয়না নিউজ