বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
নীলফামারীতে হঠাৎ করে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। গত সাত দিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৪৩ জন রোগী। এর মধ্যে ৮০ জনই শিশু। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। একইসঙ্গে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের আইসোলেশন বিভাগে রেখে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এক শিশুর মা বাবলি বেগম জানান, তার সন্তান জ্বর, পাতলা পায়খানা ও ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছিল। পরে শরীরে র্যাশ দেখা দিলে চিকিৎসকরা হাম সন্দেহ করেন। অন্যদিকে, মনোয়ারা বেগম নামে আরেক অভিভাবক জানান, হঠাৎ পাতলা পায়খানা শুরু হলে দ্রুত সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।