বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে তেলবাহী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় টানা ১১ ঘণ্টা ধরে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ১৬ বগির একটি ডিজেলবাহী ট্রেন মাধবপুরের মনতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে অন্তত পাঁচটি ওয়েল ট্যাংকার বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে একটি বগি পাশের একটি সেতু থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম ডালিম জানান, রাতে বিকট শব্দে কয়েকটি তেলবাহী বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতি ও রেললাইনের ত্রুটিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোতে প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল ছিল, যার মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি নষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি বগি উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে সিলেট-ঢাকা রুটের উপবন এক্সপ্রেস, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের উদয়ন এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার কাজ শেষ করে রেললাইন স্বাভাবিক করতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।